তুই চাই কবিতা – শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়

তুই চাই কবিতা – প্রেমের এই কবিতাটি লিখছেন “শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়”।

 

তুই চাই কবিতা - শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
তুই চাই কবিতা – শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়

 

বাংলা ভাষার আধুনিক যুগের কবিদের মধ্যে শ্রীজাত অন্যতম। সম্পূর্ণ নাম “শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়”। জন্ম ২১ ডিসেম্বর, ১৯৭৫। জন্মস্থান কলকাতা। শ্রীজাত আনন্দ পুরস্কারে (২০০৪) ভূষিত হয়েছেন তার উড়ন্ত সব জোকার কবিতার বইয়ের জন্য। তিনি বর্তমানে ফেসবুকেও সক্রিয় আছেন। এই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন সাম্প্রতিক ঘটনা সম্পর্কে নিজের অভিমত ব্যক্ত করেছেন এবং ফেসবুকেও তিনি প্রবল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।

শ্রীজাত-এর উল্লেখ্য কাজের মধ্যে উড়ন্ত সব জোকার বিশেষভাবে উল্লেখ্য। এছাড়াও আছে ছোটদের চিড়িয়াখানা (২০০৫), বর্ষামঙ্গল (২০০৬), অকালবৈশাখী (২০০৭), বোম্বে টু গোয়া (২০০৭), কর্কটক্রান্তির দেশ (২০১৪), ইত্যাদি। ২০০৪ সালে উড়ন্ত সব জোকার বইয়ের জন্য আনন্দ পুরস্কার।

 

তুই চাই কবিতা – শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়

আমি একটা তুই চাই
একটা সত্যিকারের তুই চাই,
যে জানবে আমার পুরো ভিতরটা
জানবে আমার লুকানো সব দোষ,
আমার বদমাইশি, আমার নোংরামি,
আমার কলঙ্ক।
যে নিজে থেকে আমার ভুলগুলোর
অংশীদার হবে,
আমার পাপগুলোকে অর্ধেক করে লিখে নেবে
নিজের খাতার প্রথম পাতায়।

শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায় 2 তুই চাই কবিতা - শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়

আমি এমন একটি তুই চাই
যাকে আমি নির্দ্বিধায় উপহার দেব
আমার সব অনিয়ম,আমার অপারগতা,
আমার বদভ্যাস, আমার উশৃঙ্খলতা।
আমি পিঠ চাপড়ে তার
কাঁধে তুলে দেব আমার
অসহায়ত্বের ঝুলি,
আমার একাকীত্ব, আমার নিঃসঙ্গতার কষ্ট,
আমার দুশ্চিন্তা, আমার হতাশা।

সবগুলো ঝাড়ুদারের মতো কুড়িয়ে নিয়ে
সে বাধবে মস্ত বড় এক বস্তা,
তারপর কুলির মতো
মাথায় করে বয়ে নিয়ে যাবে সেইসব অভিশাপ,
আর হাসতে হাসতে বলবে –
ভীষণ ভারী রে, কি করে এতদিন বইলি
এই বোঝা?
তারপর,
ঠিকানা ছাড়া পথে হাটতে থাকবে অসীম
সমুদ্র পর্যন্ত
সাগর পাড়ে এসে
প্রচন্ড শক্তিতে ছুঁড়ে ফেলে দেবে সেই বোঝা
ঠিক সাগরের মাঝখানে হারিয়ে যাবে
আমার সব অভিশাপের ঝুলি।

আমি ঠিক এরকম একটা তুই চাই
যে কোনদিন তুমি বা আপনি গুলোর মাঝে
হারিয়ে যাবে না

শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায় 1 তুই চাই কবিতা - শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়

 

তুই চাই কবিতা আবৃত্তিঃ

 

মন্তব্য করা বন্ধ রয়েছে।